হেমন্ত গরাই-এর দুটি কবিতা

 

মুখ আকাশের বুকে অস্তগামী সূর্যের আলোর বন্যা দেখেছ দেখেছ আকাশের মুখ, দেখেছ সেই আলো রঙ গলে পড়তে একরাশ মেঘকে উড়িয়ে নিয়ে এসে সকালটাকে ভার করে দেওয়া আকাশের মুখটা তোমার ভালো লাগে? আবার মেঘেরা যখন ইচ্ছেডানা হয়ে তোমার মনের খবর বয়ে আনে তখন? মেঘের মুখটা কেমন মনে হয়? কয়েক হাজার মাইল উড়ে আসা পরিযায়ী পাখির মুখের ভাষা পড়েছ? কিম্বা সার্থক শিকারের পর বাঘিনীর মুখের রেখা- বছরের পর বছর ফসল নষ্ট হবার পরও অদম্য উৎসাহে চাষ করা চাষীর মুখ- দেখেছ? একজন প্রথিতযশা কবির সান্ধ্যকালীন মুখ কি মোমের মতো নরম আলোয় দেখছো? ধরো একজন নিষ্ঠুর খুনী, যার ধরা পড়ার ভয় তাকে কখনো কুঁকড়ে দেয় না- শীতের মিষ্টি সকালে দেখো তার মুখ- কেমন শিশুর মতো সরল, গোলাপের পাপড়ির মতো নরম তুলতুলে ঠোঁট নিয়ে- কী বলে প্রেমিকার মুখ- সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরে ঘরে ফেরে যে শ্রমিক- তার বউয়ের মুখটা মনে পড়ে? নিঝুম রাতে নব্বই উত্তীর্ণ বৃদ্ধার মুখে অসংখ্য রেখা দেখেছ- লণ্ঠন নেভানোর প্রাক্কালে; কত শতাব্দীর পর শতাব্দী ইতিহাসের পাতায় না থাকা মুখগুলো চোখের উপর ভেসে আসে কখনো? এমনই হাজার মুখের ছবি মধুবনি শিল্পে আছে আঁকা তোমার মুখে তোমার মুখের ভেতর আরো মুখ আছে- পরিচয় করো তাদের সঙ্গে। শব্দ শব্দেরা কথা কয় শব্দেরা অনুভতি জোগায়, শব্দেরা মাথায় খেলা করে, ঘোরে তোমাকে চরকির মতো ঘুরিয়ে মারে। খাঁ খাঁ দুপুরে টিন ভাঙা, লোহা ভাঙা কিনতে আসা ফেরিওয়ালার ডাক কোন্ কথা বলে? লু বয়ে চলা মাঝদুপুরে একটা ঘুঘু পাখির একটানা ডাক কোন্ অনুভূতি জাগায় তোমার মনে? কিম্বা ধরো পাহাড়ি বাংলোর পাশে একটা নদী বয়ে যাচ্ছে, ভালো করে আলো ফোটার আগে তুমি পায়ে পায়ে গেলে সেই নদীটির কাছে তির তির করে বয়ে চলা নদী কী কথা বলে জলভাঙার শব্দে? শুনেছ-
গত কালবৈশাখীতে ঝড় যখন এতগুলো কথা বলে গেল শব্দ খরচ করে, তখন তো বুঝেছিলে, নইলে টিভি রিমোটে হাত কেন দিলে ক্ষয়ক্ষতির খবর জানতে? বৃষ্টির শব্দ ভালো লাগে শুনতে? কোন্ অনুভূতি জাগায় প্রাণে? মাঝরাতে একা ছাদে উঠেছ কখনো, দেখেছ রাত্রিরা কেমন শব্দ করে ঘুমায়- নৈঃশব্দ্যের মাঝে প্যাঁচার ডাকই তো রাত্রির শব্দ, সেই শব্দ শুনেছ? ‘মাথার ভিতর এক বোধ কাজ করে’, শব্দেরা বোধ তৈরি করে; শব্দেরা কথা বলে মাথায়, অনুভূতি জোগায় মনে। শব্দদের কথা শোনো-     

প্রিয় পাঠক,
ফেসবুক লগইনের মাধ্যমে এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন। এছাড়া খানিকটা নিচে জিমেইল লগইন করে, নাম বা ইউআরএল লিখে অথবা নামহীনভাবে মতামত জানাবার ব্যবস্থা রয়েছে।
ধন্যবাদান্তে,
সম্পাদক, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ