সাইফ সিরাজ
আব্বা
আব্বা ছিলেন হোমিও ডাক্তার
আরবি, উর্দুও জানতেন ভালো
ইংরেজি আর বাংলা ভাষায়-
তাকে বলা হতো জীবন্ত অভিধান।
মসজিদ, মাদরাসা এবং তাঁর
ডিসপেন্সারি- ইমাম, শিক্ষক
আর ডাক্তারি; সব মিলিয়ে-
তিনি আমার হিরো হয়ে উদ্ভাসিত।
কবিতা-শ্লোক, খনার বচন
প্রবাদ-প্রবচন বলতেন যখন
মনে হতো অন্য মানুষ-
গভীর ধ্যানে চলে গেছেন দূর বাস্তবে।
আমি ভাবতাম আব্বার অনেক
পয়সা জমা আছে কোথাও
একদিন সেসব টাকায় হঠাৎ
জমানো সব চাওয়া পূর্ণ করে দিবেন!
চোখ কপালে তুলে আমরা অবাক হবো!
একদিন রাতে; আমার নায়ক
আব্বাকে খুব আবেগ নিয়ে
বললাম, “এতো প্রতিভার ধন
আমি পেতে চাই আপনার মতো করে।”
আব্বা বললেন, “প্রতিভার দাম
খুব বেশি রে! এই দাম তোরে
পৃথিবীর লোক দেয় কোত্থেকে!
তারচে’ তুই যা নিজের মতো উপার্জনে।
প্রতিভা রাখ্। এই সবে কিছুই মিলবে না।”
আমি জেনে যাই; গোপনে আব্বার কিছু
নেই জমানো। এই প্রতিভাই তাঁর ঐশ্বর্য।
কুকুরটাকে ঈর্ষা করতাম
প্রতিটা পাঁজর কীভাবে যেনো চেয়ে থাকতো আমার দিকে। আয়নাতে দাঁড়াতেই আমার চোখের পাতা হতো লজ্জাবতী পাতা। এরপর অনেকগুলো চোখ সক্রিয় হতো অন্ধকারের জোনাকির মতো। মেসের ডাল, আলু ভর্তা, ব্রয়লার মুরগি আর পাঙ্গাস মাছেরা তখন খুব বিম্বিত হতো- যেনো তারা সবাই সিনেমার ট্রেইলার। প্রতিটা পাঁজর গুণে গুণে হঠাৎ আবিষ্কার করতাম ওদেরও চোখ গজিয়েছে। চোখগুলো তাচ্ছিল্য ভরে আমাকে দেখছে...
বিকেলে ট্যুশনির বাসার কলিং বেল চাপতেই একটা অ্যালসেশিয়ান ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের মতো খেঁকিয়ে উঠতো। নাদুস-নুদুস শব্দটা কুকুরটার সঙ্গে যুৎসইভাবে মিশে যেতো। সামনে গরুর গোশত। আরও কিছু খাবার- নাম না-জানা। গোসলের জন্য লাক্স সাবান। শ্যাম্পু। ব্রাশ। একজন মানুষ। আলাদা কক্ষ। কাজ- অযাচিত চিৎকার করা আগন্তুক কাউকে দেখলেই।
প্রতিদিন বিকেলে কুকুরটাকে ঈর্ষা করতাম। নিজের জন্য মেসের জায়গাটা কল্পনা করতাম। পাঁচ টাকার তিব্বত লেমন সোপে গোসলের কথা মনে হতো। প্রায় দিনই শরীরে পানি ঢেলে শ্যাম্পুর মিনি প্যাক ডলার কথাও মনে হতে প্রতিদিন বিকেলে। কুকুরটাকে ঈর্ষা করতাম।
সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় কুকুরটার দিকে তাকাতাম। একদম চুপ থাকতো সে। চোখগুলো চকচক করতো। কুকুরটির উজ্জ্বল চোখ দুটিতে একটা শব্দ আমি পড়তে পারতাম- ‘ছোটলোক’।
দাঁড়কাক ও কাকতাড়ুয়ার ফাইলোসফি
একটা বিষণ্ন বিকেলে আরেকটু বিষণ্ন হয়ে
কাকতাড়ুয়ার ডান হাতে বসলেন দাঁড়কাক।
দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ চলছিল দুইজনের-
সন্ধ্যে নামার পরেও কথা চলছিল। থামেনি।
কয়েকটা জোনাকি ভয়ে-আতঙ্কে একটু দূরে
চুপচাপ ধানের পাতায় বসে বসে ভাবছিলো
কখন দাঁড়কাক মহাশয় যাবেন।
জোনাকিরা বলছে; রাত আমাদের।
দাঁড়কাক বলছে; তো আমি কী করবো!
একদিন রাতে; আমার নায়ক
আব্বাকে খুব আবেগ নিয়ে
বললাম, “এতো প্রতিভার ধন
আমি পেতে চাই আপনার মতো করে।”
আব্বা বললেন, “প্রতিভার দাম
খুব বেশি রে! এই দাম তোরে
পৃথিবীর লোক দেয় কোত্থেকে!
তারচে’ তুই যা নিজের মতো উপার্জনে।
প্রতিভা রাখ্। এই সবে কিছুই মিলবে না।”
আমি জেনে যাই; গোপনে আব্বার কিছু
নেই জমানো। এই প্রতিভাই তাঁর ঐশ্বর্য।
কুকুরটাকে ঈর্ষা করতাম
প্রতিটা পাঁজর কীভাবে যেনো চেয়ে থাকতো আমার দিকে। আয়নাতে দাঁড়াতেই আমার চোখের পাতা হতো লজ্জাবতী পাতা। এরপর অনেকগুলো চোখ সক্রিয় হতো অন্ধকারের জোনাকির মতো। মেসের ডাল, আলু ভর্তা, ব্রয়লার মুরগি আর পাঙ্গাস মাছেরা তখন খুব বিম্বিত হতো- যেনো তারা সবাই সিনেমার ট্রেইলার। প্রতিটা পাঁজর গুণে গুণে হঠাৎ আবিষ্কার করতাম ওদেরও চোখ গজিয়েছে। চোখগুলো তাচ্ছিল্য ভরে আমাকে দেখছে...
বিকেলে ট্যুশনির বাসার কলিং বেল চাপতেই একটা অ্যালসেশিয়ান ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের মতো খেঁকিয়ে উঠতো। নাদুস-নুদুস শব্দটা কুকুরটার সঙ্গে যুৎসইভাবে মিশে যেতো। সামনে গরুর গোশত। আরও কিছু খাবার- নাম না-জানা। গোসলের জন্য লাক্স সাবান। শ্যাম্পু। ব্রাশ। একজন মানুষ। আলাদা কক্ষ। কাজ- অযাচিত চিৎকার করা আগন্তুক কাউকে দেখলেই।
প্রতিদিন বিকেলে কুকুরটাকে ঈর্ষা করতাম। নিজের জন্য মেসের জায়গাটা কল্পনা করতাম। পাঁচ টাকার তিব্বত লেমন সোপে গোসলের কথা মনে হতো। প্রায় দিনই শরীরে পানি ঢেলে শ্যাম্পুর মিনি প্যাক ডলার কথাও মনে হতে প্রতিদিন বিকেলে। কুকুরটাকে ঈর্ষা করতাম।
সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় কুকুরটার দিকে তাকাতাম। একদম চুপ থাকতো সে। চোখগুলো চকচক করতো। কুকুরটির উজ্জ্বল চোখ দুটিতে একটা শব্দ আমি পড়তে পারতাম- ‘ছোটলোক’।
দাঁড়কাক ও কাকতাড়ুয়ার ফাইলোসফি
একটা বিষণ্ন বিকেলে আরেকটু বিষণ্ন হয়ে
কাকতাড়ুয়ার ডান হাতে বসলেন দাঁড়কাক।
দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ চলছিল দুইজনের-
সন্ধ্যে নামার পরেও কথা চলছিল। থামেনি।
কয়েকটা জোনাকি ভয়ে-আতঙ্কে একটু দূরে
চুপচাপ ধানের পাতায় বসে বসে ভাবছিলো
কখন দাঁড়কাক মহাশয় যাবেন।
জোনাকিরা বলছে; রাত আমাদের।
দাঁড়কাক বলছে; তো আমি কী করবো!
কাকতাড়ুয়া বলছে; সেই যে দাঁড়িয়েছি
কেউ কি আমার কথা ভাবো! একাকিত্ব
কী জিনিস টের পাও!
দাঁড়কাক তখন অভয় দিলো। বললো; শুনো,
আমি ছোটদের খাই না। কাকতাড়ুয়া বললো;
জোনাকিরা আলো দাও। আমি তো তোমাদের
সঙ্গেই আছি। বিশ্বাস করো দাঁড়কাকেরা এখন
কেউ কি আমার কথা ভাবো! একাকিত্ব
কী জিনিস টের পাও!
দাঁড়কাক তখন অভয় দিলো। বললো; শুনো,
আমি ছোটদের খাই না। কাকতাড়ুয়া বললো;
জোনাকিরা আলো দাও। আমি তো তোমাদের
সঙ্গেই আছি। বিশ্বাস করো দাঁড়কাকেরা এখন
জোনাকি খায় না। আলো খায়। দার্শনিক বিষয়।
দাঁড়কাক আবার বললো; আলো খেয়ে খেয়ে
রাত নামাই। রাতের দুঃখ আমি বুঝি! এসো
জোনাকি আলো দাও। জোনাকিরা বিশ্বাস করে।
দাঁড়কাক আবার বললো; আলো খেয়ে খেয়ে
রাত নামাই। রাতের দুঃখ আমি বুঝি! এসো
জোনাকি আলো দাও। জোনাকিরা বিশ্বাস করে।
আলো দেয়। উড়ে। কাকতাড়ুয়ার একাকিত্ব
শেষ হয়। দাঁড়কাকের শেষ হয় খিদে। শেষ
জোনাকিটা কাকতাড়ুয়া ও দাঁড়কাককে বলে;
শেষ হয়। দাঁড়কাকের শেষ হয় খিদে। শেষ
জোনাকিটা কাকতাড়ুয়া ও দাঁড়কাককে বলে;
তোমরা কবে থেকে বাংলাদেশের পলিটিক্স হলে!
0 মন্তব্যসমূহ
প্রিয় সুহৃদ,
এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন।
এখানকার মন্তব্য প্রাথমিক অবস্থায় সার্ভারে অদৃশ্যভাবে জমা থাকবে। অ্যাডমিন প্যানেল থেকে অনুমোদন দেওয়ার পর তা দৃশ্যমান হবে।
ধন্যবাদান্তে,
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)