তন্ময় আলমগীর
স্কুল থেকে বেরিয়ে মনে হলো একটা চা খাওয়া দরকার। যেকোনো বিষয়ে মন বিষণ্ন হলে আমি চা খাই। চা আমার মন ভালো করার মহৌষধ। গেলাম স্টলে। নজরুল ভাইয়ের স্টল। পরিচিত। প্রায় সময় যাওয়া হয়। কিন্তু সিগারেটের ধোঁয়ায় বেশিক্ষণ বসতে পারিনি।হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম কিছুটা দূরে। রাস্তার পাশের খোলা মাঠটায়। হু হু বাতাস বইছে। সকালের ভ্যাপসা গরম উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে সে বাতাস। কয়েকজন শিশু ফুটবল নিয়ে খেলছে। আজ কি স্কুল বন্ধের দিন? না তো। তাহলে এই শিশুরা এখানে কেন?
জিজ্ঞেস করতে গিয়েও আটকে গেলাম। আমার মতোই হয়তো ওরাও আনন্দের খোঁজে এখানে এসেছে। আনন্দে বাধা দেওয়া নিকৃষ্ট ধরনের অপরাধ। এমন অপরাধ করার শক্তি আমার এখনও হয়নি।
মুঠোফোন বেজে উঠল। ‘স্যার, একজন অভিভাবক এসেছে। স্কুলে আসবেন এখন?’ মনের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, ‘আসতে দেরি হবে আমার। আপনারা ম্যানেজ করে নিন।’ মন এতটাই বিষণ্ন যে, প্রিয় জায়গা স্কুলে পর্যন্ত যেতে মন চাচ্ছে না।
ফেসবুকে কয়েকজন লেখকের কয়েকটা লেখা পড়লাম। কিন্তু কী পড়লাম, আদৌ কিছু পড়েছি কি
না বুঝতে পারিনি। বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে এলাম বাহার উদ্দীনের বাসার সামনে। ম্যাসেজ দিলাম, ‘চলো, ঘুরে আসি।’ দুজন চলে গেলাম পলিটেকনিকের সামনে। বসে বসে চিপস খেলাম।
ততক্ষণে আকাশ মেঘলা হয়ে গেছে। যেকোনো সময় হুড়মুড় করে নেমে যেতে পারে বৃষ্টি। দ্রুত ফিরে এলাম স্কুলে। তখনও মনটা বিষণ্ণ। ভীষণ
রকম বিষণ্ন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দু-তিন ঘণ্টা ধরে কেন আমার মন খারাপ সেই রহস্য খুঁজে বের করতে পারছি না।
এখনও সে রহস্যের দ্বার উন্মোচিত হয়নি। সবারই কি মাঝেমধ্যে এমন হয়? মন বিষণ্ন হয়?? অকারণে???
0 মন্তব্যসমূহ
প্রিয় সুহৃদ,
এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন।
এখানকার মন্তব্য প্রাথমিক অবস্থায় সার্ভারে অদৃশ্যভাবে জমা থাকবে। অ্যাডমিন প্যানেল থেকে অনুমোদন দেওয়ার পর তা দৃশ্যমান হবে।
ধন্যবাদান্তে,
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)