রোকেয়া রিক্তার ছোটগল্প ‘ফেরা’

 

রোকেয়া রিক্তা

বাড়ির গেটে যখন পৌঁছলাম তখন খুব সকাল। গেটের মুখে বাবার সাথে দেখা হলো। বাবাকে দেখেই কষ্টগুলো দ্বিগুণ হলো যেন। চোখ তুলে চাওয়ার আগেই তিনি বলে উঠলেন, তুমি? এতো সকালে কেন? একা কেন? ঝগড়া করে এসেছ?

এতোগুলো প্রশ্নের মুখে শুধু দুইবারআব্বুজিশব্দটি বের হলো। কিছুই কৈফিয়ৎ দেওয়া হলো না। কান্নায় গলা আটকে এসেছে। 

দেখ, সংসারে অশান্তি করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে তুমি বাড়িতে ঠাঁই পাবে না। শ্বশুরবাড়িতে ঝগড়াঝাঁটি করে বাবার বাড়ি এসে ওঠা কোনো ভদ্রলোকের মেয়ের কাজ নয়। যেভাবে এসেছ সেভাবেই ফিরে যাও। নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান কর গিয়ে।

সারাটা রাস্তা ঝাপসা চোখে পথ চলেছিলাম। এখন চোখে আর পানি নেই। শুকনো খটখটে। বাড়ির ভিতরে উঁকি দিলাম। মাকে দেখতে পেলাম না। বোধহয় রান্নাঘরে আছে। বাইরের খবর তার কাছে পৌঁছায়নি হয়তো। নয়তো ছুটে আসতো। না আসুক; রুমা, রুমন খবর না পাক। আমাকে ফিরতে হবে। কী লজ্জা! যে বাড়িটা নিজের ভেবে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ালাম সেখানে ঢোকার জো নেই। এটা বাবা ভদ্রলোকের বাড়ি। আর একবার চেয়ে দেখলাম ভদ্রলোকের মুখের দিকে। আমার শুকনো চোখের চাহনি তাকে ভাবিয়ে দিল বোধহয়। কিন্তু আমি তার বিরক্তিমাখা কপালের ভাঁজ গুণতে ব্যস্ত।

 

পকেট হাতড়ে মোবাইল বের করে কানে ধরলেন। 

হ্যালো সোহেল, হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ যাচ্ছে ঐ। তোমার শরীর ভালো? হ্যাঁ, হ্যাঁ এখানে আছে। যাবে আর কোথায় বলো। ছেলেমানুষ মাথায় বোধবুদ্ধি না থাকলে যা করে আরকি। আচ্ছা এসো, এসো। না,না; না খেয়ে যাওয়া যাবে না। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে বিকালে যেও।

 

বাকি কথা আর শুনতে পেলাম না। হাত দিয়ে ইশারা করে বাড়ির ভেতরে দেখিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। টিউশনিতে যাচ্ছেন মনে হয়। মোবাইলটা কানে গোঁজা। কতো সুন্দর হেসে হেসে মেয়ে জামাইয়ের সাথে কথা বলছেন। অথচ তিনি জানতেও চাইলেন না সারা শরীরে কতোগুলো কালসিটে নিয়ে তার মেয়ে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।

দুকদম সামনে বাড়িয়েই মনে হলো ফিরতেই যখন হবে তখন আর কেন? গুটি গুটি পায়ে পেছনের পথ ধরলাম। গেটের কাছে লাগানো মেহেদির ডালটা নতুন ডালপালা ছেড়ে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। বিয়ের মাস দুই আগে পুঁতেছিলাম এটা। সাতটা মাস আরও চলে গেছে। দুটো ডগা দুদিকে ধরে টান দিতেই গোড়া অব্দি দুভাগ হয়ে গেল। ক্ষমতা থাকলে বাড়ির সবার মন থেকে আমার স্মৃতিগুলোও এভাবে মুছে দিয়ে যেতাম। একটু হলেও মুছতে পেরেছি এই কত, না!

সেদিনের পরে আরও সাতটা মাস পেরিয়েছে। না, বাবা ভদ্রলোকের বাড়ির চৌকাঠের ওপারে কেউ আমাকে নিতে পারেনি। ফিরতি পথে সবটুকু  আত্মসম্মান পুঁতে ফেলেছিলাম কদমে কদমে। ফিরে  এসেছি কি না জানতে চেয়ে আব্বুজির ফোন এলেই আমার শাশুড়ি মা আফসোস করে বললেন, হা বেয়াই, সারারাত ধরে ওকে বোঝালাম, সেই চলেই গেল। সংসারে অমন হয় না কার আবার! তাই বলে ছোটলোকের মতো কাজ কারবার আমাদের ঘরের বৌ-ঝিদের মানায়?

হ্যাঁ, তিনি রাতে বুঝিয়েছিলেন। এলোপাথাড়ি লাথিঘুষি খেয়ে হতভম্ব হয়ে বসে আছি। তখন উনি সুন্দর করে বলেছিলেন, আমার মেয়েটা কাল চলে যাক, তারপর যত খুশি অশান্তি করো। কাল সকালটা পর্যন্ত রেহাই দাও।

ফিরে আসতে দেখে সোহেল হেসে উঠে বলেছিল, ফিরে এলে যে বড়, একটা বেলাও থাকতে পেলে না? এই চুলোয় তো ফিরতে হলো। দেমাগটা কমিয়ে দাও, ঘরে শান্তি আসবে।

সোহেল তখনও জানতে পারেনি, আমার দৃশ্যমান আমিটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

তারা ঋতুর মতো বদলেছে ক্ষণে ক্ষণে। খোঁচাতে খোঁচাতে ত্যক্ত-বিরক্ত তারা। আমি নির্বিকার। চায়ের কাপটা ছুঁড়ে মারলেও যে মুড, ঘুমানোর আগে চুলে বিনুনি করতে বাঁধা দিলেও সেইম।

শুধু বিপাকে পড়ে যাই তখন, যখন কোনো এক লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যারাতে বুকের কাছে জড়িয়ে রেখে মাথায় পিঠে পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে দেয়। খুব অসহ্য লাগে সোহেলের নীরবতাটুকু। বুকের ধুঁকধুঁক শব্দ। চোখ বেয়ে অভিমানেরা গলে পড়তে চায়। 

কোথায় প্রাণ জাগাতে চায় ও। আমি আত্মহত্যা করেছি কোনকালে কি খবর পায়নি

আমার কাছে সোহেল মানে গাঢ় শ্বাস আর শরীর জুড়ে কিলবিল। 

আর আব্বুজি মানে ভদ্রলোক। চরম প্রকারের ভদ্রলোক। যার মেয়ের কোনো আত্মসম্মানবোধ থাকতে পারে না। সর্বংসহা, অনুভূতিহীন জড় পদার্থের জন্মদাতা হিসেবে যিনি গর্বিত; সবচেয়ে প্রয়োজনের দিনে যার দরজায় তালা- সে হলো বাবা। 

আরও সাতটা মাস গড়িয়েছে। আমার মধ্যে আরও দুটি প্রাণ বেড়ে উঠছে। মা, রুমা প্রায়ই আসে। ওদের দেখলেই অসহ্য লাগে। ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিই। হেসে কখনও কথা বলেছি কি! মনে পড়ে না। কিন্তু চলে গেলেই বুক ভেঙে কান্না আসে। বাড়ির চৌকাঠ থেকে ফিরে আসার পর থেকেই আমি সাইলেন্ট করে রেখেছি কান্নার ভলিউম। আমাকে পেছনে ফেলে মা যখন বাড়ির পথ ধরে তখন অটোমেটিক্যালি ভাইব্রেশনে চলে আসে। সপ্তাহ পেরোনোর আগেই সবার অগোচরে ঠোঁট ভেঙে কান্না আসে। মনে হয় মা আর কোনোদিন আসবে না। 

সোহেলের কী হয়েছে জানি না। চোরের মতো নিঃশব্দে পিছু নেয় শুধু। আমার থমথমে মুখে কাকে যেন খুঁজে বেড়ায়? কি এখনও খবর পায়নি, একটা শরীরি ফ্রেম নিয়ে আমি ঘুরে বেড়াই? রুমকি ফেরেনি আদৌ। যেখানে আত্মসম্মাননট এলাউডসেখানে রুমকি ফিরবে না। আমি হারিয়ে গেছি ওর রুক্ষতামাখা হুঙ্কারে, অবিশ্বাসে ভরা চোখের চাউনিতে, রোজকার তুচ্ছতাচ্ছিল্যে।

 

মাকে সেদিন আর কখনও আসতে না করে দিয়েছি। অসহ্য লাগে তাদের উপস্থিতি। ভদ্রলোক বাবার কথা শুধু মনে পড়ে যায়। মনে হয় এই বুঝি মায়ের পেছনে তারও পায়ের শব্দ কানে আসে। বুক সমান বিষে ডুবে থাকি রোজ। তাই মাথা অব্দি ডুবিয়ে নিতে চাই। তার বাড়িতে আমার জায়গা নেই। নিজের সমস্যা নিজকে সমাধান করতে হবে। ভদ্রলোক বাবার কথা কেন মনে পড়বে

 

সেদিন ফিরে আসার পরে তিনবার আব্বুজি বাড়িতে এসেছিলেন। দুইবার খালি হাতে ফিরে গিয়ে তৃতীয়বারে যখন এসেছিলেন আমার মনে হয়েছিল আব্বুজি যেন নিভে গেছেন। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন সন্তানের কাছে জেতার দিন তার ফুরিয়েছে। হার মেনেই বাড়িতে ঢুকেছিলেন। নত মস্তকে ঢুকেছিলেন বেয়াই বাড়িতে। বেয়ানের কথার খোঁচা আর মেয়ের জিদ তার চিবুকটা বুকের সাথে ঠেকিয়ে দিয়েছিল। বিদায় নিতে এসে সামনাসামনি বাবা-মেয়েতে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার মুখের দিকে তাকিয়েছিলেন আব্বুজি। কিন্তু আমি কেন তার দৃষ্টি খুঁজে পাইনি? এই রুমু, বলার সাথে সাথেই আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলাম, আমি এখন বাড়ি যাবো না। সময় নেই। 

সময়ের কেন অভাব পড়েছে যদিও  আব্বুজি সেটা ভালো করেই জানেন। শুকনো কণ্ঠে থেমে থেমে বলেছিলেন, তাহলে আমি যাই। দেখিস সময় করে আসতে পারিস কি না। কথাগুলো বলতে গিয়ে তার মুখের রঙ বদলে গেল যেন। আব্বুজি কি কাঁদছিলেন? চোখ তো ভেজা দেখিনি। তবে কি শুকনো চোখে কাঁদছিলেন?

দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে আমি তখন খুঁজছি যন্ত্রণা। কতো বিষ আছে কেউ যদি ঢেলে দিত বুকের মধ্যে। কসাইয়ের মতো কেউ অগুণতি টুকরো করতো আমায়। কেঁদে কেঁদে খুন হতে পারতাম যদি।

 

ফেলে এসেছি আরও সাতটা মাস। আমার কোল জুড়ে দুটো জান্নাতের পাখি সানাই আর বীণা নেমে এসেছে আল বারাকা মেডিকেলের ওয়েটিং রুমে বসে আছি সানাইকে নিয়ে। দুজনকে সামলাতে না পারি যদি, বীণাকে শাশুড়ি মায়ের কাছে রেখে এসেছি। সানাইটার সর্দি-কাশি লেগেই আছে। রাতে যেন জ্বর জ্বরও মনে হয়। হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো তুলতুলে গাল দুটো লাল হয়ে যায় কাশতে কাশতে। ওর কাশির সাথে আমার জানটা বেরিয়ে যায় যেন। কতো কষ্টই না পাচ্ছে মেয়েটা আমার। শুক্রবারে ডাক্তার বাহারকে দেখিয়ে ওষুধ নিয়েছি যদিও, কিন্তু তেমন উপকার হলো কই? সোহেল আর ওর মায়ের যা কথার শ্রী, বলে এই ওষুধগুলো আগে শেষ হোক তারপরে না সারে তো ফের নিয়ে গেলে হবে। মেয়ের আমার জান বেরিয়ে যাচ্ছে। আবার কবে শুক্রবার আসবে সেদিন দেখাতে হবে? ওদের ভরসায় বসে থাকার মতো ধৈর্য নেই আমার। সোমবারেও চেম্বারে বসেন উনি। তাই নিজেই চলে এসেছি মেয়েকে নিয়ে।

 

ত্রিশ মিনিটে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে যাবো ভেবে নির্ভাবনায় মেয়েকে ফেলে এলাম বাড়িতে। দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে, ডাক্তারের খবর নেই। যত ঝামেলা আজকেই হতে হলো? বীণাটা কী করছে কে জানে? ঘুম থেকে উঠে মাকে না পেয়ে কাঁদছে নিশ্চয়ই! পায়ের উপর নিয়ে দোলা না দিলে কিছুতেই ফিডার খেতে চায় না। মায়ের তো পায়ে ব্যথা। ওভাবে কি দোলাতে পারছে? না খেয়েই থাকছে না তো মেয়েটা? ফোন তুলছে না কেন? তৃতীয়বারে ওপাশ থেকে রিসিভ হলো কলটা।

হ্যালো, মা, এতো কাঁদছে কেন? খাচ্ছে না? দুলিয়েও খাওয়াতে পারলেন না? এখনও তো অনেকক্ষণ লাগবে। ডাক্তার মাত্র এসেছে। তিন চলছে। আমার সিরিয়াল তেইশ। না হয় ফিরে আসবো? এখনও ঘণ্টা দুই তো লাগবে। আপনি কীভাবে রাখবেন অতক্ষণ? হ্যাঁ, আর আসছে সপ্তাহে বসবে...  কেটে গেল কলটা। ব্যাক দিতে গিয়ে বন্ধ পেলাম। ঠিক চার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।  

শাশুড়ির কথার চেয়ে বীণার কান্নার আওয়াজ বেশি শুনতে পেলাম। কী কান্নাটাই না কাঁদছে মেয়েটা।

দিকভ্রান্ত হয়ে সোহেলকে ফোন দিলাম। ফোন তুলছে না। অফিসের কাজে ব্যস্ত আছে হয়তো। দুই মিনিটের মাথায় কল ব্যাক দিল ও। ফোনটা কানে নিয়েই ঝরঝর করে কেঁদে ফেললাম। 

স্নেহমাখা বাবার কোল, মমতাময়ী মায়ের আঁচলের দাবি ছেড়ে দিয়েছি। সমস্ত পৃথিবী জুড়ে এক অন্ধকার ছাড়া আর কেউ নেই আমার। যত দুঃখ তাদের দিয়েছি তার চতুর্গুণ বেজেছে আমার বুকে। নিঃসঙ্গতা আর অন্ধকারে হাপুস নয়নে কেঁদেছি। কখনও সোহেলের উপস্থিতি টের পেলেই কান্নাদের শুকিয়ে নিয়েছি। কষ্টগুলো জমিয়ে ফেলেছি বরফের মতো করে। আমার কেউ নয়। ওর কাছে কেন কাঁদতে যাবো

 

আজ কেঁদে ফেললাম। ফোনের ওপাশে আছড়ে মরছে সোহেল। রুমু, রুমু, কী হয়েছে? কাঁদছ কেন? না বললে বুঝবো কীভাবে? কান্না থামাও, আর বল কী হয়েছে!

কান্নাভাঙা গলায় যেটুকু বলেছিলাম তার মানে এই যে, বীণা খুব কান্নাকাটি করছে মায়ের কাছে, ওকে এনে দাও, মা ওকে রাখতে পারবে না এতক্ষণ, আমার ফিরতে অনেক সময় লাগবে।

সোহেল হাঁফ ছেড়ে বলল, এইজন্য এভাবে কেউ কাঁদে বোকা? ভয় পাইয়ে দিয়েছ একবারে। শান্ত হও আমি নিয়ে আসছি।

 

কলটা কেটে দিয়ে পেছনে ফিরতে গিয়ে মনে হলো কেউ যেন তাকিয়ে আছে আমার দিকে। উল্টো ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেলাম টলমল একজোড়া চোখ।

 

আব্বুজি! মুখের উপর শুকনো হাসি টেনে চেয়ে আছেন আমাদের মা-মেয়ের দিকে। তার অসম্ভব একগুঁয়ে  জেদি মেয়েটা পরিপূর্ণ রমণী হয়েছে। সন্তানের কোল জুড়ে নতুন উত্তরাধিকার বাবা-মায়ের চোখে এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর নেই। 

কিন্তু আমি দেখছি আমার প্রতিপক্ষ। যাকে আমি হারিয়ে দিয়েছি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। পরাজয়ের লজ্জা যাকে শীতলতা এনে দিয়েছে। কেমন যেন বুড়িয়ে গেছেন আব্বুজি। কাঁচাপাকা চুলের মিশ্রণে কেমন অদ্ভুত লাগছে দেখতে। আমার সুপার হিরো বুড়ো হয়ে গেছে। হার মেনে নত মুখে পেছনের পথ ধরেছে।  

আজ বোধহয় কান্নায় পেয়েছে আমাকে। খুব করে কাঁদতে মন চাইছে।  কী হয়েছে আব্বুজি?

তেমন কিছু না, এতো কাঁদছিস কেন? কথাটা বলতে গিয়ে তারও গলাটা ধরে এলো। কথা খুঁজে পাচ্ছি না; আর কী জানতে চাইবো কী বলবো বুঝতে পারছি না। ঠোঁট ভেঙে কান্না আসছে শুধু। আমি হারিয়ে দিয়েছি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আমার সুপার হিরো হেরে ভূত হয়ে গেছে। তার চোখের চাউনিতে লজ্জা নাকি দুঃখ পড়তে সাহস পাচ্ছি না। কেঁদে কেঁদে পাগল হয়ে যাচ্ছি শুধু। সানাইকে কোলে নিয়ে ওর দুহাতের পাতায় চুমো মেখে দিচ্ছেন আব্বুজি। আর আমি কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছি।

প্রিয় পাঠক,
ফেসবুক লগইনের মাধ্যমে এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন। এছাড়া খানিকটা নিচে জিমেইল লগইন করে, নাম বা ইউআরএল লিখে অথবা নামহীনভাবে মতামত জানাবার ব্যবস্থা রয়েছে।
ধন্যবাদান্তে,
সম্পাদক, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ

  1. অলোকরঞ্জন ত্রিপাঠী২৯ এপ্রিল, ২০২৫ এ ৫:১৯ PM

    মেলাদিন বাদে একখানা গল্প পড়ে আরাম পেলুম। শেষ অব্দি এসে চৌখ ভিজে গেল।

    উত্তরমুছুন
  2. চমৎকার একটা গল্প পড়লাম!

    উত্তরমুছুন
  3. রোকেয়া রিক্তা। আমার চোখে পড়া নতুন এক লেখকের নাম। নতুন এজন্য যে, আগে তাঁর লেখা পড়িনি বা তাঁকে জানি না। অথচ তাঁকে প্রথম পাঠে আমার চমৎকার এক মুগ্ধতা! 'ফেরা' গল্প পড়ে আমার অসাধারণ লাগলো। শব্দবুননে নতুনত্বের দাবিদার হওয়ার যোগ্যতা রাখেন তিনি; শব্দচয়ন সত্যিই প্রশংসনীয়। গল্পের নায়িকা রুমু; যে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলো সাংসারিক সকল আয়োজন থেকে, মাতৃত্বের মধ্য দিয়ে সে আবার ফিরে আসে নিজের কাছে। এ এক অন্যরকম ফেরার গল্প 'ফেরা'। ধন্যবাদ সম্পাদককে নতুন গল্পের আস্বাদ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

    উত্তরমুছুন
  4. আহা! কী চমৎকার গল্প! কী মুগ্ধতা!

    উত্তরমুছুন

প্রিয় সুহৃদ,
এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন।
এখানকার মন্তব্য প্রাথমিক অবস্থায় সার্ভারে অদৃশ্যভাবে জমা থাকবে। অ্যাডমিন প্যানেল থেকে অনুমোদন দেওয়ার পর তা দৃশ্যমান হবে।
ধন্যবাদান্তে,
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)