সালমান হাবীব

আজকাল কোথাও প্রাণ খুলে 
হেসে ফেললে– পরক্ষণে আঁতকে উঠি! 
মনে হয়, কেউ দেখলো!
কেউ কি রেকর্ড করলো?
কেউ কি ঘৃণার গুলতি তাক করলো
আমার ওই একটুখানি হাসির দিকে?

এই শহরে হাসিও এখন সন্দেহজনক।
খালি পেটে হাসলে— বলে, বিদ্রূপ!
ভাঙা ঘরে হাসলে— বলে, অভিনয়!
দুজন মিলে হেসে উঠলে—
লোকের চোখে তুমি অপরাধী।

আজকাল কেউ আমার হাসির প্রশংসা করলে
আমি শঙ্কিত হই, ভয় পাই।
মনে হয়, খুন করার আগে এটাই বুঝি 
তার মুখ থেকে শোনা
আমার প্রতি শেষ সুন্দর বাক্য।

এই শহরে একটি ছেলে
একদিন রোদ দেখে হেসেছিল,
শুধু হেসেছিল বলেই— সে আর ফেরেনি।
তার হাসি থেমে গেছে,
একটি নামহীন, মুখহীন মৃত্যুর ঘরে।

আমরা এখন হাসি না।
মুখে পরে রাখি শোকের মুখোশ,
চোখে রাখি নিঃশব্দ অনুতাপ।
হাসতে ইচ্ছে হলে প্রথমে দেখি চারপাশ,
তারপর ধীরে ধীরে বলি; 
হে নিষ্প্রাণ নগরী, আমাকে ভুল বুঝো না।
আমি হাসছি না, আমি শুধু দুঃখকে আড়াল করে 
সুখী সাজার চেষ্টা করছি।

কারণ কবি বলেছেন; “হাসির আড়ালে 
দুঃখকে আড়াল করার কৌশলটা আয়ত্ত 
করতে পারলেই আপনি একজন সুখী মানুষ”

আজকাল সুখী সাজার ভান করতেও হাসি না।
কারণ এই শহরে হাসিও এক ধরনের অপরাধ।
আর সেই অপরাধের শাস্তি— মৃত্যুদণ্ড!

প্রিয় পাঠক,
ফেসবুক লগইনের মাধ্যমে এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন। এছাড়া খানিকটা নিচে জিমেইল লগইন করে, নাম বা ইউআরএল লিখে অথবা নামহীনভাবে মতামত জানাবার ব্যবস্থা রয়েছে।
ধন্যবাদান্তে,
সম্পাদক, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)