হিশাম আবরারের কবিতা ‘স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক’

 

স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক

স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক তো আসলে একটা অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ। আমাদের সমস্ত বাক্য, আকুতি, বাসনা, ব্যথা সব লাভার মতো গইলা যাওয়া; এইটাতো বিগ ব্যাংয়ের মতোই ঘটনা। ভাবগাম্ভীর্য আসলে আমাদের খালি চোখে দেখি, স্রষ্টার আরশে হাত তুইলা যে কান্দে; সে তো আসলে কানতাছে না; সে দুরন্ত কৈশোর যে সবুজ এক পাহাড়ের পাদদেশে খিলখিল পানির শব্দে হাসতে থাকা নদীর কিনারে বনেদি হরিণের সাথে খেলা করতেছে। চোখ বন্ধ কইরা ঠোঁট নাইড়া জিকিরে মশগুল থাকা সে এক কাশ্মীরি রাখাল হয়ে হাঁটছে; জান্নাতুল ফিরদাউসের বাদ্যযন্ত্রগুলা গৃহপালিত বকরির মতো তার পদচিহ্ন অনুসরণ করতেছে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার মতলবে। সেজদায় তো সদ্যোজাতের মতো কাঁচুমাচু হয়ে স্রষ্টার কোলে উঠে পড়ি আমি, আম্মার শেষ বৈঠকে যেভাবে উঠে বসতাম— ধীরে ধীরে বুক বেয়ে কাঁধে মাথায় বসতে থাকা, স্রষ্টার কুদরতি অবয়বেও ঠিক তেমনি ঘুঘুর মতো উইড়া উইড়া বসতে থাকি কোথাও না কোথাও স্থির না হয়া। স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির মান্যতায় যে নীরবতা, যে সরলতা, যে স্থিরতা; তা তো শুধু খালি চোখের। এইটা যে কী ভীষণ এক দুরন্তপনা, কী ভীষণ এক ঝড়, কী ভীষণ এক হইচই, কী ভীষণ এক সাইক্লোন, সুনামি, যেনো বসন্তের বাতাসে লুটায়া পড়ছে মেহগনি ফলের ভেতরে থাকা চাবির মতো। স্রষ্টাকে স্মরণের মাদকতা যেনো পথে আঘাতপ্রাপ্ত কোনো চড়ুই, কেউ অতি যত্নে মাটি থেকে হাতে তুলে নেওয়ার মতো; নিঃসন্দেহে আমিই সেই চড়ুই যার আছে ডানা ভেঙে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার দুঃখ আবার অতি আদরে স্রষ্টার নিরাপদ উষ্ণতায় ঘুমিয়ে পড়ার সৌভাগ্য।


প্রিয় পাঠক,
ফেসবুক লগইনের মাধ্যমে এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন। এছাড়া খানিকটা নিচে জিমেইল লগইন করে, নাম বা ইউআরএল লিখে অথবা নামহীনভাবে মতামত জানাবার ব্যবস্থা রয়েছে।
ধন্যবাদান্তে,
সম্পাদক, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. আসলে স্রষ্টার অস্তিত্ব তো এভাবেই উপলব্ধ হওয়া উচিত; মায়ের সাথে সন্তানের যেমন।

    উত্তরমুছুন

প্রিয় সুহৃদ,
এখানে আপনার মতামত জানাতে পারেন।
এখানকার মন্তব্য প্রাথমিক অবস্থায় সার্ভারে অদৃশ্যভাবে জমা থাকবে। অ্যাডমিন প্যানেল থেকে অনুমোদন দেওয়ার পর তা দৃশ্যমান হবে।
ধন্যবাদান্তে,
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ, ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)